Thursday , July 2 2026
Breaking News
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অদেখা জলতৃষ্ণা: প্রযুক্তির পেছনে কতটা পানি খরচ হচ্ছে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অদেখা জলতৃষ্ণা: প্রযুক্তির পেছনে কতটা পানি খরচ হচ্ছে?

আধুনিক বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ই-মেইল লেখা থেকে শুরু করে জটিল কোডিং বা ছবি তৈরি—সবকিছুই এখন নিমিষেই করে দিচ্ছে চ্যাটজিপিটি বা জেমিনাইয়ের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো। কিন্তু এই ডিজিটাল সুবিধার আড়ালে যে এক বিশাল পরিবেশগত সংকট লুকিয়ে আছে, তা অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনের গবেষক নাভিদ সালেহর গবেষণায় উঠে এসেছে, এআই-এর প্রতিটি কমান্ড বা অনুরোধ পূরণের পেছনে বিপুল পরিমাণ সুপেয় পানি খরচ হচ্ছে।

বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ। এআই প্ল্যাটফর্মগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজন বিশাল সব ডেটাসেন্টার। আমরা যখন কোনো এআই টুলকে কোনো ছবি বা লেখা তৈরির নির্দেশ দিই, তখন সেই অনুরোধটি বিশ্বের কোনো প্রান্তে অবস্থিত শক্তিশালী সার্ভারে গিয়ে প্রসেস হয়। এই বিশাল পরিমাণ ডেটা প্রসেসিংয়ের সময় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। যন্ত্রকে সচল রাখতে এবং অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে বাঁচাতে এই সার্ভারগুলোকে শীতল করা জরুরি। ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত বাতাসের সাহায্যে এই শীতলীকরণ প্রক্রিয়া চললেও, এখন এআই-এর ব্যবহারের ব্যাপক বৃদ্ধির ফলে পানির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। পানি বাতাসের চেয়ে প্রায় ৪ হাজার গুণ বেশি তাপ শোষণ করতে সক্ষম, তাই আধুনিক ডেটাসেন্টারগুলোতে লিকুইড কুলিং বা তরল শীতলীকরণ পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, একজন ব্যবহারকারী যখন এআই-কে দিয়ে একটি সাধারণ ই-মেইল ড্রাফট করান এবং তা কয়েকবার পরিবর্তন করেন, তখন সেই প্রক্রিয়ায় প্রায় এক গ্লাস সুপেয় পানি খরচ হয়ে যায়। একটি স্থিরচিত্র তৈরি করতে খরচ হয় দুই গ্লাস পানি, আর ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও তৈরি করতে প্রয়োজন পড়ে প্রায় ২০ গ্লাস পানি। ২০২৫ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ডেটাসেন্টারগুলোতে শীতলীকরণের জন্য বছরে প্রায় ৫৫০ বিলিয়ন লিটার পানি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বিশ্বের বোতলজাত সুপেয় পানির বার্ষিক চাহিদার সমান।

ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও বাড়বে, যা পানির সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞ নাভিদ সালেহ সতর্ক করে বলেছেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। অপ্রয়োজনে বা নিছক বিনোদনের জন্য এআই-এর ব্যবহার কমিয়ে আনা জরুরি। আমরা যখনই কোনো এআই টুল ব্যবহার করব, তখন মনে রাখতে হবে যে প্রতিটি উত্তরের পেছনে বিদ্যুৎ ও পানির এক বিশাল ব্যয় রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে সুপেয় পানির অপচয় রোধে আমাদের প্রযুক্তিগত অভ্যাসে পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষ যেন পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদের বিনিময়ে না হয়, সেই বিষয়ে এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

এছাড়াও

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি নেটওয়ার্কে সাইবার হামলা: জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি নেটওয়ার্কে সাইবার হামলা: জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য পরিকাঠামোয় আবারও বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির গুরুত্বপূর্ণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *