চলতি ফিফা বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মাঠে এক ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ পার করে শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিয়েছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-১ গোলের এই জয় মার্কিন ফুটবল ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই জয়ের আনন্দ কিছুটা ফিকে হয়ে এসেছে স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বসনিয়ার খেলোয়াড় তারিক মুহারেমিভিচের গোড়ালিতে বালোগুনের বুটের স্টাড লাগলে ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।
এই সিদ্ধান্তটি মাঠের রেফারি রাফায়েল ক্লাউসের অদূরদর্শিতার পরিচয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হেড কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি কোনোভাবেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফাউল ছিল না। বল দখলের লড়াইয়ে এটি ফুটবলের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই লাল কার্ডের ফলে আগামী ৬ জুলাই বেলজিয়ামের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় বালোগুনকে বাইরে থাকতে হবে, যা মার্কিন দলের জন্য বড় ধাক্কা। নিয়মানুযায়ী এই সাসপেনশনের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ না থাকায় পচেত্তিনোর দল এখন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিফার রেফারিং নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফুটবল ভক্তরা এই সিদ্ধান্তের সাথে গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির ফাউলের একটি ঘটনার তুলনা করছেন। সেই ম্যাচে মেসি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ঈসা মান্দিকে পেছন থেকে বিপজ্জনক ট্যাকল করলেও রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক তাকে কোনো কার্ডই দেখাননি, এমনকি ভিএআর থেকেও কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি। একই ধরনের ফাউলের ক্ষেত্রে দুই ভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করায় ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। অনেকে একে ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
এতসব বিতর্কের মাঝেও মার্কিন দল তাদের লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের নেতৃত্বে দলটি ১০ জন নিয়ে খেলেও বসনিয়ার বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। এখন তাদের পুরো মনোযোগ বেলজিয়ামের বিপক্ষে পরবর্তী লড়াইয়ে। এই বিতর্কিত রেফারিংয়ের ঘটনাটি ফিফার টেকনিক্যাল কমিটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে রেফারিংয়ের মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
