পিরোজপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সর্বশেষ ৩০ জুন হাসপাতালটি উদ্বোধনের একটি সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল, তবে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও লজিস্টিক সাপোর্টের অভাবে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনা পিরোজপুরসহ আশেপাশের প্রায় ২০ লাখ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। গত এপ্রিল মাসে প্রথমবার উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও তা কার্যকর হয়নি, যা প্রশাসনের অব্যবস্থাপনাকেই নির্দেশ করে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
১৯৮৪ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা পিরোজপুর সদর হাসপাতালটি ধাপে ধাপে ৫০ ও ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও আধুনিক চিকিৎসা সেবার চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিল। ২০১৭ সালে ২৫০ শয্যার এই আধুনিক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, যা বর্তমানে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নয় তলাবিশিষ্ট একটি দৃষ্টিনন্দন ভবনে রূপ নিয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও লিফট স্থাপন এবং বিদ্যুৎ সংযোগের মতো মৌলিক অবকাঠামোগত জটিলতা প্রকল্পটিকে স্থবির করে রেখেছে। গণপূর্ত বিভাগের তথ্যমতে, লিফট আমদানিতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। এমতাবস্থায়, জনদুর্ভোগ কমাতে আপাতত লিফট ছাড়াই হাসপাতালের চারটি ফ্লোর চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান জানান, গণপূর্ত বিভাগ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে। আসবাবপত্র স্থাপনের পরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে হাসপাতালটি উদ্বোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে শুধু ভবন বা আসবাবপত্রই নয়, হাসপাতালে দক্ষ চিকিৎসক ও জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। নতুন ভবন চালু হলে এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জনবল নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিগত সরকারের আমলে প্রকল্পটি দীর্ঘ সময় অবহেলিত ছিল, তবে বর্তমান প্রশাসন এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আপাতত তিনটি ফ্লোর চালু করে চিকিৎসা সেবা শুরু করার প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অক্টোবর মাসের মধ্যে লিফট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পিরোজপুরবাসীর প্রত্যাশা, আর কোনো অজুহাতে যেন উদ্বোধনের তারিখ পেছানো না হয়। আধুনিক চিকিৎসা সেবার সুযোগ যেন দ্রুত নিশ্চিত করা হয়, এটাই এখন স্থানীয়দের একমাত্র দাবি। হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শুধু পিরোজপুর জেলা নয়, বরং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় এটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
