জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনমূলক জয়ের পর ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড মাথেউস কুনহার আবেগঘন উদযাপন ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর তিনি জাপানি খেলোয়াড়দের দিকে এগিয়ে গিয়ে হাতের পাঁচটি আঙুল দেখিয়ে ব্রাজিলের রেকর্ড পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এই ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গির সাথে তার উচ্চকিত উচ্চারণ ছিল, ‘আমার পাঁচটা আছে!’ এই ঘটনা মুহূর্তেই ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ওঠে, যা কেবল ব্রাজিলের বিজয় উল্লাসকেই নয়, বরং তাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বসেরার মুকুট পুনরুদ্ধারের আকাঙ্ক্ষাকেও তুলে ধরেছে।
রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে জাপান প্রথমে গোল করে এগিয়ে গেলেও, ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোলটি আদায় করে নেয়। এই জয় কেবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের স্থান নিশ্চিত করেনি, বরং টুর্নামেন্টে তাদের দৃঢ় সংকল্পের একটি সুস্পষ্ট বার্তাও দিয়েছে। জাপানের মতো পরিশ্রমী ও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও জয় ছিনিয়ে আনা সেলেকাওদের মানসিক দৃঢ়তা এবং চ্যাম্পিয়নস চরিত্রেরই প্রতিফলন। এই জয় দলের আত্মবিশ্বাসকে নিঃসন্দেহে আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং সামনের ম্যাচগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা যোগাবে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলই একমাত্র দল যারা সর্বোচ্চ পাঁচবার এই শিরোপা জিতেছে। এর মধ্যে শেষবার তারা ২০০২ সালে এশিয়ার মাটিতেই (জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতে যৌথভাবে আয়োজিত) বিশ্বকাপ জয় করেছিল। এরপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়, অর্থাৎ প্রায় ২৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বহুল আকাঙ্ক্ষিত ষষ্ঠ শিরোপাটি অধরাই রয়ে গেছে। প্রতিটি বিশ্বকাপেই ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামা সত্ত্বেও ট্রফি হাতে না ওঠায় দলের ওপর এবং সমর্থকদের মধ্যে এক ধরণের চাপা উত্তেজনা ও প্রত্যাশার চাপ থাকে। কুনহার এই উদযাপন যেন সেই চাপেরই বহিঃপ্রকাশ এবং একই সাথে প্রতিপক্ষকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল।
কুনহার এই অঙ্গভঙ্গি বিভিন্ন মহলে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে আত্মবিশ্বাসের চূড়ান্ত প্রকাশ এবং ব্রাজিলের ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ এটিকে প্রতিপক্ষের প্রতি কিছুটা অসম্মানজনক বা উস্কানিমূলক বলেও মনে করছেন, যা খেলার স্পিরিটের পরিপন্থী। তবে ব্রাজিলের সমর্থকদের কাছে এটি নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়, যা তাদের দলকে ষষ্ঠ শিরোপার দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। এই ধরনের প্রতীকী উদযাপন প্রায়শই খেলার মাঠে মানসিক লড়াইয়ের অংশ হয়ে দাঁড়ায়, যা কেবল খেলার ফলাফল নয়, বরং খেলোয়াড়দের মনস্তত্ত্বকেও প্রভাবিত করে।
শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়ার পর ব্রাজিল এখন তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষের জন্য অপেক্ষা করছে, যারা হতে পারে নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্ট। শিরোপা জয়ের পথে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ এবং এই ধরনের আবেগঘন মুহূর্তগুলো দলের মধ্যে একতা ও জেতার আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়িয়ে তোলে। কুনহার এই বিতর্কিত অথচ স্মরণীয় উদযাপন হয়তো এই বিশ্বকাপের ব্রাজিলের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে, কারণ তারা কেবল একটি ম্যাচ জেতেনি, তারা নিজেদের ঐতিহ্য এবং লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য সেলেকাওরা যে সর্বাত্মক প্রস্তুত, কুনহার এই অঙ্গভঙ্গি যেন তারই জোরালো ঘোষণা।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
