Tuesday , June 30 2026
Breaking News
ইসরায়েল আর ‘ব্যতিক্রমী মিত্র’ নয়: ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে সম্পর্কের নতুন মোড়

ইসরায়েল আর ‘ব্যতিক্রমী মিত্র’ নয়: ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে সম্পর্কের নতুন মোড়

পলিটিকোর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের নীতিতে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনছে। এখন থেকে ইসরায়েলকে আর দেশটির ‘ব্যতিক্রমী মিত্র’ হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র) নীতির আওতায় অন্যান্য মিত্রদেশের মতোই বিবেচনা করা হচ্ছে। এই নীতিগত পরিবর্তন ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে একটি নতুন মোড় সৃষ্টি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে পলিটিকো জানিয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও সেই একই কৌশলগত নীতি অনুসরণ করছে, যা তারা বিশ্বের অন্যান্য মিত্রদেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকে। এর ফলে, ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিগত সিদ্ধান্তে কোনো বিশেষ সুবিধা পাবে না। একজন ইসরায়েলি রাজনৈতিক উপদেষ্টাও এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, ইসরায়েল এতদিন ধরে ধারণা করেছিল যে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতার বাইরে থাকবে, কিন্তু এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তার মতে, চার বছর ধরে চলা এই ‘ব্যতিক্রমী মিত্র’ হিসেবে থাকার অবস্থা আসলে টেকসই ছিল না এবং এটি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

এই নীতিগত পরিবর্তনের অন্যতম জোরালো সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পলিটিকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি অস্বাভাবিক রকম খোলাখুলিভাবে ইসরায়েলের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ভ্যান্স ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রই ইসরায়েলের ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’, এবং একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনের সমর্থনকে নিশ্চিত বা স্বতঃসিদ্ধ ধরে না নেওয়ার ব্যাপারে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন। এটি ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান গ্রহণের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত, যা তাদের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

দুই দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে পলিটিকোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে পলিটিকো উল্লেখ করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৫ সালে পাঁচবার ওয়াশিংটন সফর করলেও, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত মাত্র একবার সফর করেছেন, যা ছিল গত ফেব্রুয়ারিতে। এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্র পলিটিকোকে জানিয়েছে যে, হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর আরেকটি সফরের সম্ভাবনা বর্তমানে বিবেচনায় নেই। একই সঙ্গে, দুই দেশের সরকারের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে, যা সম্পর্কের শীতলতাকেই প্রতিফলিত করে।

এর আগে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতানিয়াহুর প্রতি তীব্র অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছিল। পলিটিকোর বর্তমান প্রতিবেদন তারই ধারাবাহিকতা প্রকাশ পেয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ জুন টেলিফোনে কথোপকথনের সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে তাকে ‘পাগল’ বলেও উল্লেখ করেছেন। পরে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন যে, তিনি ওই আলাপচারিতায় নেতানিয়াহুকে ‘পুরোপুরি পাগল’ বলেছিলেন। ট্রাম্প আরও বলেছেন যে, ‘বিবি (নেতানিয়াহু), সব ইহুদি তোমার ওপর বিরক্ত’। এই ধরনের ব্যক্তিগত ও কঠোর মন্তব্য দুই নেতার ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের গভীর ফাটলকেই নির্দেশ করে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনগুলি শুধু একটি নতুন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গভীরতর স্থানান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইসরায়েলকে তার দীর্ঘদিনের বিশেষ মর্যাদা থেকে সরিয়ে এনে অন্যান্য মিত্রদেশের কাতারে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান এবং ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি আরও সতর্ক করে বলেছে, ‘সবচেয়ে খারাপ সময় আসা এখনো বাকি’, যা ওয়াশিংটন-তেল আবিব সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসতে পারে।

এছাড়াও

সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়: প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়লো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উপর, ফেডারেল রিজার্ভ নয়

সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়: প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়লো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উপর, ফেডারেল রিজার্ভ নয়

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক যুগান্তকারী রায়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করেছে, যা কিছু ফেডারেল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *