মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিষয়ে তার নীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছেন এবং দেশটির বিরুদ্ধে আরও সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের সাথে বিদ্যমান ‘যুদ্ধবিরতি’ এখন ‘শেষ’। এই ঘোষণার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে, ন্যাটো সম্মেলন ঘিরে চলমান হালনাগাদ তথ্যের মধ্যেও ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।
কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। তার ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো কোনো চুক্তি ছাড়াই ইরানকে ‘পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ’ করতে পারে। এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপের অর্থ কী হতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইরান পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক শীতল থেকে আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। ট্রাম্প তখন ইরানের উপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করেছিলেন, যা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক হুমকির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছিল।
নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হওয়ার ফলে ট্রাম্প একটি জটিল যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং অপ্রীতিকর বিকল্পগুলির মুখোমুখি হচ্ছেন। ‘যুদ্ধবিরতি’ শব্দটি এখানে সম্ভবত প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাতের অনুপস্থিতি বা একটি নির্দিষ্ট স্তরের উত্তেজনাকে বোঝানো হয়েছে, যা এখন ট্রাম্পের মতে আর কার্যকর নয়। এই ধরনের পরিস্থিতি প্রাক্তন প্রেসিডেন্টকে এমন এক কঠিন অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তই বড় ধরনের আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
সিএনবিসি-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীতে গভীরতর সংকটের মধ্যে ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি ইরানের সাথে কোনো চুক্তির বিষয়ে ‘নিশ্চিত নন’। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ, এবং এর যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রণালীতে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং একে অপরকে উস্কানি দেওয়ার ঘটনা প্রায়শই দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
অ্যাক্সিওস-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের ইরান বিষয়ক বাগাড়ম্বরে একটি সুস্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার পূর্ববর্তী ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবির তুলনায় বর্তমান ‘যুদ্ধবিরতি শেষ’ ঘোষণা তার নীতির কঠোরতা এবং আপোষহীন মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। এটি বোঝায় যে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার জন্য তার প্রশাসনের কৌশল আরও আগ্রাসী হতে পারে, অথবা তিনি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করছেন। অতীতেও ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে একাধিকবার সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য বৈশ্বিক শক্তিগুলি বারবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। একটি পূর্ণাঙ্গ সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে। ট্রাম্পের এই নতুন হুমকি বিশ্বজুড়ে তেলের দামের উপর প্রভাব ফেলবে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে। ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে যে, তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেবে। সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা জানতে বিশ্ববাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
