বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। ডেনমার্কের উন্নত ও বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন দেশের মাটিতেই উৎপাদিত হবে আন্তর্জাতিক মানের ইনসুলিন। এর ফলে দেশের বাজারে জীবন রক্ষাকারী এই ওষুধের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই উদ্যোগের ফলে দেশের লাখ লাখ ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা পাবেন, যা দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের তথ্যমতে, দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এই নীরব ঘাতক ব্যাধিতে আক্রান্ত এবং তাদের একটি বড় অংশকে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন ইনসুলিন গ্রহণ করতে হয়। এতদিন পর্যন্ত উচ্চমানের ইনসুলিনের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো, যার কারণে সাধারণ রোগীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতো। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ডেনমার্কের বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তিগত সহায়তায় দেশেই ইনসুলিন উৎপাদনের এই মহতি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেনমার্কের এই প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেশের ওষুধ উৎপাদন খাতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই ইনসুলিনের মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, যাতে রোগীরা আমদানিকৃত ইনসুলিনের মতোই সমান কার্যকারিতা পান। উৎপাদন খরচ কম হওয়ার কারণে সরাসরি খুচরা পর্যায়ে এর দাম ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে। এতে করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীরা নিয়মিতভাবে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে পারবেন।
বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। এই সময়ে স্থানীয়ভাবে সাশ্রয়ী মূল্যে ইনসুলিন উৎপাদনের এই খবর স্বাস্থ্য খাতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশীয় ওষুধ শিল্পের এই অগ্রগতি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাই মেটাবে না, বরং ভবিষ্যতে বিদেশেও এই বিশ্বমানের ইনসুলিন রপ্তানি করার পথ সুগম করবে।
ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। ডেনমার্কের মতো উন্নত দেশের প্রযুক্তি দেশে আসার ফলে স্থানীয় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে, দেশেই বিশ্বমানের ইনসুলিন উৎপাদন এবং এর মূল্য হ্রাস দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
