টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনের পথ সুগম করতে আগামী পাঁচ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রায় ৪২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সরকারের হালনাগাদ করা এসডিজি অর্থায়ন কৌশলের পর্যালোচনায় এই তথ্য উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) ও এসডিজি অর্থায়নবিষয়ক জাতীয় ভ্যালিডেশন কর্মশালা’য় এই বিপুল পরিমাণ অর্থের হিসাব তুলে ধরা হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। তিনি ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত মেয়াদে বাংলাদেশের পরিবর্তিত অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অর্থায়নের চাহিদা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেন। তার উপস্থাপনায় স্পষ্ট করা হয় যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেকসই লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে হলে কেবল প্রচলিত বাজেট বরাদ্দ দিয়ে কাজ চলবে না; বরং দেশীয় সরকারি ও বেসরকারি খাত, জলবায়ু তহবিল এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে বড় অংকের বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এসডিজি বাস্তবায়নের বর্তমান সময়কে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, একদিকে যেমন অর্থায়নের উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সীমিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, যথাযথ কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরজনিয়াক বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন অর্থায়নের সংকীর্ণতার কথা তুলে ধরেন। তিনি পরামর্শ দেন যে, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিনিয়োগে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব উৎস থেকেই এসডিজির অর্থায়ন অনেকটাই মেটাতে পারে। এছাড়া, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে একটি বাস্তবসম্মত ও সুসংহত অর্থায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এবং কর্মশালার সভাপতি এ এইচ এম জাহাঙ্গীর।
যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে পরিচালিত ইউএনডিপি ক্লাইমেট ফাইন্যান্স নেটওয়ার্কের কারিগরি সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন নীতিনির্ধারক, সরকারি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞ এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা মনে করছেন, এসডিজির সফল রূপায়ণে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
