Thursday , July 23 2026
Breaking News
মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সড়ক ডুবে জনদুর্ভোগ: চার বছর ধরে নৌকাই ভরসা

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সড়ক ডুবে জনদুর্ভোগ: চার বছর ধরে নৌকাই ভরসা

মৌলভীবাজার, ২৩ জুলাই ২০২৬: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর কৃষ্ণনগর–বাজারচালি আরসিসি সড়কের প্রায় ২০০ মিটার অংশ চার থেকে পাঁচ বছর আগে দেবে যাওয়ায় বর্ষাকালে এখানকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। প্রতি বছর বর্ষা এলেই সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় নৌকা। দীর্ঘ চার বছর ধরে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির প্রায় ২০০ মিটার অংশ আজ থেকে প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে হঠাৎ দেবে যায়। সেই সময় থেকেই সামান্য বৃষ্টিতেই এই অংশটি পানিতে ডুবে যায় এবং বর্ষা মৌসুমে এটি পুরোপুরি জলমগ্ন থাকে। সড়কটি দেবে যাওয়ায় এর নিচের মাটি সরে গেছে এবং পিচঢালা অংশ প্রায় সম্পূর্ণই বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এটি আর সড়ক হিসেবে ব্যবহারযোগ্য থাকছে না। সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে যানবাহন চালকদেরও এই পথে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

এই জলাবদ্ধতার কারণে বাছিরপুর, কৃষ্ণনগর, বাজারচালি, এবং সংলগ্ন আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া-আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বর্ষার চার মাস তাদের কার্যত বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করতে হয়। অসুস্থ ব্যক্তি বা গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নিতে চরম বেগ পেতে হয়, অনেক সময় নৌকা যোগে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কের এই অংশটি দেবে যাওয়ার পেছনে নির্মাণ ত্রুটি, দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং অতিবৃষ্টিজনিত ভূমি ক্ষয় মূল কারণ হতে পারে। আরসিসি সড়ক হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না হওয়ায় এর অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে থাকা এই সড়কের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই দীর্ঘসূত্রিতা কেবল স্থানীয় অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, মানুষের সামাজিক জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ বিষয়ে পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তাদের নজরে আছে এবং তারা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মেরামতের জন্য আবেদন করেছেন। তবে বাজেট বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, প্রতি বছর শুধু আশ্বাস নয়, তারা স্থায়ী সমাধান চান যাতে বর্ষাকালে তাদের আর নৌকার উপর নির্ভরশীল থাকতে না হয়। এই সংকট নিরসনে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এছাড়াও

পাবনা প্রবিপ্রবিতে র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়ে হাসপাতালে শিক্ষার্থী, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

পাবনা প্রবিপ্রবিতে র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়ে হাসপাতালে শিক্ষার্থী, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) নবীন এক শিক্ষার্থী সিনিয়রদের র‍্যাগিং ও মানসিক নির্যাতনের শিকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *