বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারী কলেজশিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের গুরুতর অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর হালিশহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আফতাব মজুমদারকে আটক করার পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। গ্রেপ্তারকৃত আফতাব মজুমদার চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির একজন সদস্য এবং তিনি নগরীর ওয়্যারলেস এলাকার বাসিন্দা। এক ভুক্তভোগী তরুণীর দায়ের করা সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতেই এই যৌথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র মতে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রী গত ১৯ জুলাই আফতাব মজুমদারের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামির অবস্থান শনাক্তে তৎপরতা বৃদ্ধি করে। এর ধারাবাহিকতায় র্যাবের একটি চৌকস দল হালিশহর এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে চান্দগাঁও থানায় সোপর্দ করে।
মামলার নথি ও এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি কলেজে অধ্যয়নরত। আনুমানিক তিন মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আফতাবের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় ঘটে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান এবং ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে আফতাব তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন সময়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। তবে পরবর্তীতে তরুণী যখন বিয়ের কথা বলেন এবং পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য চাপ দেন, তখন আফতাব তার সাথে সমস্ত ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এমনকি মুঠোফোন নম্বর ও সামাজিক মাধ্যম থেকে ভুক্তভোগীকে ব্লক করে আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উপায়ান্তর না পেয়ে ভুক্তভোগী তরুণী ন্যায়বিচারের আশায় আইনগত প্রতিকার চেয়ে মামলা করেন।
রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নেতার বিরুদ্ধে এমন ফৌজদারি অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় জানান, বিষয়টি নিয়ে দলের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বের সাথে আলোচনা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিপূর্বে শুরু হয়েছে। দলের আদর্শ ও নৈতিকতা ভঙ্গের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে নারী নির্যাতনের ঘটনা রোধে আইনি প্রক্রিয়ার সঠিক প্রয়োগ জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং মামলার সার্বিক বিষয়াবলী খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রাখা হয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
