Thursday , July 23 2026
Breaking News
মদ খেয়ে গাড়ি চালানো এড়াতে নিজের মৃত্যুর নাটক, চীনা ব্যক্তির ৫ মাসের জেল

মদ খেয়ে গাড়ি চালানো এড়াতে নিজের মৃত্যুর নাটক, চীনা ব্যক্তির ৫ মাসের জেল

মদ পান করে গাড়ি চালানোর অভিযোগ এবং বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা থেকে বাঁচতে নিজের মৃত্যুর এক নাটকীয় কৌশল অবলম্বন করেছিলেন চীনের হেনান প্রদেশের এক ব্যক্তি, যার নাম সি। পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় কফিন কিনে, ওষুধের খালি বোতল ছড়িয়ে এবং শ্বাস আটকে কফিনের ভেতরে শুয়ে তিনি নিজের মৃত্যুর ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে দেন। কিন্তু তার এই অভিনব প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় এবং দীর্ঘ পুলিশি তদন্তের পর তিনি গ্রেপ্তার হয়ে আদালতের রায়ে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার ইউয়ান জরিমানা লাভ করেন।

ঘটনাটি গত বছর জানুয়ারিতে সি-কে মদ খেয়ে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, এর আগেও দু’বার তিনি লাইসেন্স ছাড়া মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ধরা পড়েছিলেন। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পর তিনি জামিনে মুক্ত ছিলেন, কিন্তু তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার তদন্ত ও মাথার উপর বিশাল অঙ্কের ঋণের বোঝা তাকে চরম হতাশায় নিমজ্জিত করে। এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার উপায় খুঁজতে গিয়েই তিনি নিজের মৃত্যুর মতো একটি চরম নাটকীয় পরিকল্পনা করেন।

গত বছরের জুনে সি তার পরিকল্পনা কার্যকর করেন। তিনি একটি কফিন কেনেন এবং নিজের বাড়িতে খালি ওষুধের বোতল ছড়িয়ে দেন যাতে মনে হয় তিনি অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করে মারা গেছেন। এরপর তিনি একটি কুলিং ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করে নিজের শরীরকে শীতল করেন এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ করে একটি কফিনের ভেতর স্থির হয়ে শুয়ে পড়েন, যেন সত্যিই তার মৃত্যু হয়েছে। তার মা ও দাদি এরপর দাবি করেন যে, অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের ফলে সি মারা গেছেন। মুখ বিকৃত হয়ে গেছে এমন অজুহাত দেখিয়ে তারা মৃতদেহের মুখ ঢেকে রাখেন এবং সূর্যাস্তের আগেই তড়িঘড়ি করে কফিনটি মাটিচাপা দিয়ে দেন। প্রকৃতপক্ষে, সেই কফিনের ভেতরে সি ছিলেন না; তিনি ইতোমধ্যেই নিজের আসল পরিচয় গোপন করে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান প্রদেশে পালিয়ে যান।

সির ‘মৃত্যুর’ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও বেশ কিছু বিষয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়। প্রথমত, গুরুতর অসুস্থতার জন্য কোনো জরুরি ফোন করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, কফিনটি আগেভাগেই কেনা হয়েছিল, যা অস্বাভাবিক। তৃতীয়ত, তার ‘মৃত্যু’র কোনো আনুষ্ঠানিক সনদ বা নথি ছিল না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, তার মা ও দাদি ছাড়া অন্য কেউ ‘মৃতদেহটি’ দেখেনি এবং কেন তার মুখ ঢাকা ছিল, সে বিষয়েও সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা ছিল না। এই সকল অসঙ্গতি পুলিশের মনে গভীর সন্দেহের জন্ম দেয় এবং তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, ব্যাংক লেনদেনের রেকর্ড এবং ফোন ডেটা যাচাই করে। এসব প্রমাণ ঘেঁটে তারা নিশ্চিত হয় যে সি প্রকৃতপক্ষে জীবিত আছেন এবং ইউনান প্রদেশে আত্মগোপন করে আছেন। অবশেষে, এই বছরের এপ্রিলে ইউনান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার ইউয়ান জরিমানা ধার্য করেছে। মদ খেয়ে গাড়ি চালানো, পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া এবং বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টার অপরাধে তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, অপরাধীকে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে সির মা ও দাদির বিরুদ্ধেও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, যা এই মামলার আইনি জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এই ঘটনা সমাজে আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধার গুরুত্ব তুলে ধরে।

এছাড়াও

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনায় জোর, বললেন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা খলিল

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনায় জোর, বললেন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা খলিল

ঢাকা: বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সর্বাগ্রে বাংলাদেশ’ নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *