রাজধানীর ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম সাধারণ মানুষের জীবনকে এক কঠিন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা এখন প্রতিটি দিন পার করছেন চরম অনিশ্চয়তায়। বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে আসা আবদুল আজিজ, যিনি কারওয়ান বাজারে সবজি কেনাবেচা করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাঁর অভিজ্ঞতাই বলে দেয় মুদ্রাস্ফীতির ভয়াবহতা। পাইকারি বাজারে সবজির দাম বাড়লেও ফুটপাতের ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়ায় তিনি লাভের মুখ দেখতে পারছেন না। ষাটোর্ধ্ব এই মানুষটির ক্লান্ত শরীর আর মলিন পোশাক যেন রাজধানীর প্রতিকূল অর্থনীতির এক প্রতিচ্ছবি। পরিবারের চার সদস্যের মুখে অন্ন জোগাতে হিমশিম খাওয়া আজিজের মতো অসংখ্য মানুষের এখন একটাই লক্ষ্য—কোনোরকমে টিকে থাকা।
পরিবহন খাতে কর্মরতদের অবস্থাও তথৈবচ। ফার্মগেট-মোহাম্মদপুর রুটের লেগুনা চালক হাদিস মিয়ার দৈনন্দিন আয়ের সিংহভাগই চলে যায় বাসাভাড়া এবং গাড়ির দৈনন্দিন খরচে। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য তাঁর বাজেটকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দিয়েছে। সন্তানদের পড়াশোনা এবং পরিবারের অন্যান্য চাহিদা মেটাতে গিয়ে তাঁকে প্রায়শই ঋণের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। হাদিস মিয়া জানান, আয় বাড়েনি, বরং ট্রিপের সংখ্যা কমে যাওয়ায় উপার্জনের পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। এই অনিশ্চয়তা তাঁকে ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।
একই চিত্র দেখা যায় নিরাপত্তাকর্মী আবদুর রহমানের জীবনেও। ১৫ হাজার টাকা বেতনে ঢাকা শহরে নিজের থাকা-খাওয়া এবং গ্রামে স্ত্রী-সন্তানদের পাঠানো—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা এখন তাঁর জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে মাস শেষে কিছু টাকা জমানোর সুযোগ থাকলেও, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে মাসের শেষ দিনগুলোতে তাঁর হাত একেবারেই ফাঁকা হয়ে যায়। দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন দৌড় কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং পুরো নিম্নবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রার মানকে নিচে নামিয়ে দিয়েছে। অর্থনীতির এই চাপ থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ মানুষ এখন সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ এবং নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি প্রত্যাশা করছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের এই বিশাল ব্যবধান কমিয়ে আনতে না পারলে ভবিষ্যতে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
