বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার রূপান্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বৈশ্বিক প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় শামিল হয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের আধুনিকায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বিশিষ্ট গবেষক আজম খান। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের প্রতিটি খাতে সংস্কার ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে জ্বালানি খাতের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আজম খানের গবেষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদার এক জটিল সন্ধিক্ষণ পার করছে। প্রথাগত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থায় অপচয় রোধ এবং লোড ম্যানেজমেন্টের আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। গবেষক আজম খান তার গবেষণায় দেখিয়েছেন কীভাবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুতের চাহিদা পূর্বাভাস (Demand Forecasting), গ্রিড স্মার্টনেস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং বিতরণ লাইনের ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং সিস্টেম লস কমিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আজম খানের মতো গবেষকদের কাজ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি তার গবেষণায় মূলত মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, যা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্ষমতা বিশ্লেষণ করে রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আগেভাগেই জানিয়ে দিতে পারে। এতে করে বড় ধরনের যান্ত্রিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।
শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, আজম খান তার গবেষণায় জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন। এআই-ভিত্তিক মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি ক্রয় ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে দুর্নীতি ও অনিয়ম কমিয়ে আনা সম্ভব। স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সেবার মান উন্নয়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই তার গবেষণার মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের জ্বালানি ভবিষ্যতের জন্য আজম খানের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ জাতীয় নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নতুন চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে। তার এই গবেষণার সফল প্রয়োগ দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী সংকট নিরসনে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
