ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা ও উদাসীনতার অভিযোগ এনেছেন। তাদের দাবি, দুর্যোগের পর সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের সহায়তা ও সমর্থন প্রয়োজন ছিল, তা অপ্রতুল এবং অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। এতে বিপর্যস্ত মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রিখটার স্কেলে ৬.৫ এবং ৬.২ মাত্রার এই ভূমিকম্পের ফলে বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ করা না হলেও, স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা এবং আহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক। হাজার হাজার মানুষ রাতারাতি গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
ভূমিকম্পের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা ত্রাণের জন্য হাহাকার শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, ভূমিকম্পের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সরকারি ত্রাণ ও উদ্ধারকর্মীদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। খাদ্য, পানীয় জল, তাঁবু এবং প্রাথমিক চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হচ্ছে না। মারাকাইবো এবং সান ক্রিস্তোবাল শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত গ্রামগুলো থেকে আসা খবর অনুযায়ী, জরুরি পরিষেবা পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় বহু মানুষ নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারের এই ধীরগতিকে অনেকে ‘অমার্জনীয় অবহেলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অনেক জায়গায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিসরে কাজ শুরু করলেও, জাতীয় পর্যায় থেকে সমন্বিত ও বৃহৎ আকারের কোনো উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি। এর ফলে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট অব্যবস্থাপনাও মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো ত্রাণ তৎপরতা শুরু করতে চাইলেও, সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার দুর্বল অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা দুর্যোগের প্রভাবকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে যদি দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। জনগণ অবিলম্বে পর্যাপ্ত ত্রাণ, আশ্রয় এবং চিকিৎসা সুবিধার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং সরকারের মানবিক সংবেদনশীলতার পরীক্ষা। এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জনরোষ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
