Wednesday , July 17 2024
Breaking News

উন্মাদ ব্যক্তিরা দেশ পরিচালনা করছে: কর্নেল অলি

নিজস্ব প্রতিনিধি: লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, আওয়ামী সরকার কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলে, মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা বলে, সুশাসনের কথা বলে, এমনকি ২০১৮ সালে তাদের ইশতেহারে দুর্নীতি নির্মূল ও সুশাসনের অঙ্গীকার করেছিল। পক্ষান্তরে এই সরকার দুর্নীতির সকল স্তরে প্রসার ঘটিয়েছে। সুশাসনের জায়গায় বাকশালীয় শাসন কায়েম করেছে। জনগণের কাছে জবাবদিহিতার কোন তোয়াক্কা করে না। নিজের ইচ্ছামত আইনের ব্যাখ্যা দিচ্ছে এবং আইনের প্রয়োগ করছে। ফলে জনগণের ভোটের অধিকার নাই, ভাতের অধিকার নাই, ন্যায় বিচার নির্বাসিত। উন্মাদ ব্যক্তিরা দেশ পরিচালনা করছে। ফলে জনগণের দুঃখ দুর্দশা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি শনিবার রাজধানীর পূর্ব পান্থপথস্থ এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এলডিপি আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কর্নেল অলি বলেন, প্রতিনিয়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারি দলের বাহিনী দ্বারা মানুষ নির্যাতিত ও নিপিড়ীত হচ্ছে।’মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’,তার উপর যোগ হয়েছে ডলার সংকট, বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য ডলারের পরিমাণ হচ্ছে ১৭ বিলিয়নের নিম্নে। দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান উর্ধ্বগতি, মানুষের নাভিশ্বাস, যাওয়ার কোন জায়গা নাই। অনেকে অনাহারে অর্ধহারে জীবিকা নির্বাহ করছে। ইদানিং পুলিশের যন্ত্রনায় ঘর থেকে বের হতে পারছে না। যত্রতত্র চেকিং, গায়েবি মামলা এবং বিনা কারণে গ্রেফতার। মগের মুল্লুককে বসবাস করছি।

তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে প্রায় প্রতিটি প্রকল্পের সময়ও ব্যয় বৃদ্ধি হয়ে ২ -৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থের অপচয়, দুর্নীতি এবং অর্থপাচার নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ইদানিং ১৫ প্রকল্পে বাড়তি ব্যয় দ্বিগুণ। মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে প্রকল্প শুরুর আগে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। সরকারি দলের বা তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতি নাই, মামলাও হয় না, সকলে সাধু-সন্ন্যাসী। অথচ বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭ লাখ হাজার কোটি টাকার উর্ধ্বে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। সরকার জবাবদিহিতা করতে বাধ্য নয়।কারণ তারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়। পুলিশ, ইউএনও, ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ নিশিরাতে তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। আওয়ামী লীগ ভোটে বিশ্বাস করে না, অতীতেও কখনো করে নাই।

কর্নেল অলি বলেন, বিরোধী দলের অন্যতম দায়িত্ব হল সরকারের অপকর্ম গুলি জনসম্মুখে তুলে ধরা। কিন্তু বিরোধ দলগুলো সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংবিধানের ৩৬ ও ৩৭ ধারা অনুযায়ী সভা সমাবেশ করা মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং পুলিশ বা অন্য কারো নিকট থেকে অনুমতি নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।

কর্নেল অলি আরও বলেন, আমাদের সংগ্রামের মূল লক্ষ্য বর্তমান সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে হবে। সুশাসন ও ন্যায় বিচার, মৌলিক অধিকারসহ অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সকল স্তরে নিশ্চিত করতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্ত করতে হবে, বর্তমান সংসদের বিলুপ্তি ঘটাতে হবে, মন্ত্রীসভা বাতিল করতে হবে, প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে।

এলডিপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহে আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি নূরুল আলম তালুকদার, ডক্টর নেয়ামূল বশির, ডক্টর আওরঙ্গজেব বেলাল, এডভোকেট এসএম মোরশেদ, অধ্যক্ষ সাকলায়েন,, উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপিকা কারিমা খাতুন, যুগ্ম মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, আইন সম্পাদক এডভোকেট আবুল হাশেম, প্রচার সম্পাদক এডভোকেট নিলু, প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান মাহবুব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আজগর বাবু, সহ-দপ্তর ওমর ফারুক সুমন, ঢাকা মহানগর পূর্ব এলডিপি’র সভাপতি মো. সোলায়মান, পশ্চিম এলডিপি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাদাত হোসেন মানিক, উত্তর এলডিপি’র সাধারণ সম্পাদক অবাক হোসেন রনি, দক্ষিণ এলডিপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, গণতান্ত্রিক যুবদলের সভাপতি আমান সোবহান, গণতান্ত্রিক আইনজীবি ফোরামের সভাপতি এড.নূরে আলম,, গণতান্ত্রিক শ্রমিক দলের সভাপতি এফএমএ আল মামুন, গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি খালিদ বিন জসিম, গণতান্ত্রিক কৃষক দলের সভাপতি এবিএম সেলিম, গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী কামরুল হাসানসহ প্রমুখ।

এছাড়াও

কোটা সংস্কারের দাবিতে আগারগাঁওয়ের সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা

শেষবার্তা ডেস্ক ; সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী সর্বাত্মক অবরোধের অংশ হিসেবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *