Thursday , July 18 2024
Breaking News
মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক

ইটালী-ফ্রান্সে নেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণা, সর্বশান্ত ভুক্তভোগী

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বিদেশে পৌঁছে দেয়ার মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে গ্রামাঞ্চলের নিরীহদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মানবপাচারকারী দালাল চক্র। প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে মানবপাচার হচ্ছে। স্বপ্নের দেশে পৌঁছে দেয়ার মিথ্যা আশ্বাসে দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে শত শত যুবক-যুবতী। এসব দালাল চক্রের সাথে আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রও জড়িত রয়েছে। ইউরোপে যাওয়ার সুযোগ না জুটলেও অনেককেই মাসের পর মাস বন্দি থাকতে হচ্ছে। আর না হহলে দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

ইতোমধ্যে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানব পাচার বেশ কিছু চক্রের সন্ধানে কাজ করছে র‌্যাব, সিআইডি ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল। পাচারকারী সিন্ডিকেট ভ্রমণ ভিসায় বিদেশগামীদের ভারত, নেপাল, দুবাই, মিসর ও জর্দান ঘুরিয়ে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের পাচার করছে।

 

সম্প্রতি দুবাইয়ে ১৯ মাস মানবেতর জীবনযাপন করে দেশে ফিরে আসেন মো. মিজানুর রহমান শাওন নামের একজন ভুক্তভোগী। তার চাচাতো ভাই মো. দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গত ২০১৯ সালে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৭) নামের একজন দালালের মাধ্যমে মিজানুরকে ইউরোপে পাঠাতে ১৫ লাখ টাকা দেয়া হয়। এরপর আবু বক্কর আমার চাচাতো ভাই মিজানুরকে প্রথমে দুবাই পাঠান। সেখানে দুই মাস থাকতে হবে বলে জানান। সেখান থেকে ভিসা নিয়ে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলা হয়। কিন্তু এরপর আর ইউরোপে পাঠাতে পারেননি।

দুবাইতে ১৯ মাস মানবেতর জীবনযাপন করে মিজানুর নিজ খরচে আবার দেশে ফিরে আসেন। দুবাইতে থাকাকালীন খাওয়া থাকা না পেয়ে মিজানুর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরেন। দেশে আসার পর তার চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় আবু বক্করের বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় চলতি বছরের ১২ নভেম্বর একটি ডায়েরি করেছে মিজানুরের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন। এছাড়াও ১৩ নভেম্বর তিনি র‌্যাব-১ এ একটি অভিযোগ করেছেন।

জিডি ও অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর কাফরুলের সেনপাড়া, পর্বতা এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার। রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর রোডের বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিকের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে গত ২০১৮/১৯ সালে ভুক্তভোগী মিজানুরকে ইউরোপের (ইটালী বা ফ্রান্স) পাঠানোর কথা হয়। এরপর আবু বক্কর পাঠাতে পারবেন বলে আশ্বাস দেন। ওই আশ্বাসের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময় নগদ ও চেকের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা নেন। পরে মিজানুরকে প্রথমে দুবাই পাঠান। সেখান থেকে ইটালী বা ফ্রান্সে পাঠানোর কথা ছিলো। কিন্তু আবু বক্কর সেই দুটি দেশে পাঠাতে পারিননি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে তার (আবু বক্কর) কাছে ইউরোপে পাঠানো বাবদ দেয়া ১৫ লাখ টাকা ফেরত চাইলে তিনি দেলোয়ারকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিচ্ছেন। পাওনা টাকা ফেরত ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দেলোয়ার আইনগত সহায়তা চেয়েছেন।

ভুক্তভোগীর চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশে গিয়ে উন্নত জীবনযাপন করবে এমন আশায় জমানো কিছু টাকার পাশাপাশি ঋণ করেও বেশকিছু টাকা যোগাড় করেন মিজানুর। এখন নিঃস্ব হয়ে গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, মিজানুরের সঙ্গে কথা বলে বুঝা যায়নি যে, সে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য। ইউরোপে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তার মিস্টি কথায় প্রলুদ্ধ হয়ে এখন বিপদে পড়েছেন আমার ভাই মিজানুর। এর সমাধান করতে যত ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেয়া লাগে সব ব্যবস্থা আমি নিব।

মিজানুরের মতো একইভাবে মানবপাচারকারী চক্রের কবলে পড়ে টাকা খুইয়েছে আরও অনেকে। নোয়াখালি জেলার সোনাইমুরি উপজেলার নাজিমুদ্দিন জানান, কানাডা, জার্মানি, ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে। কিন্তু নিয়ে যেতে পারে নাই। আমার কাছ থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়েছিল। পাঁচ বছর আমাকে ঘুরিয়েছে। কিন্তু বিদেশে নিতে পারে নাই। অনেক কষ্টে কিছু টাকা উঠিয়েছি। এখনো টাকা পাই।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, আমার থানায় প্রতিদিন বহু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়। দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা বেশ কিছু মানব পাচারকারী চক্রের মূলহোতা, সদস্য, ও ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছি। মানব পাচার ট্রান্স বর্ডার ক্রাইম। আন্তর্জাতিকভাবে এটাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানব পাচার রোধে র‌্যাব সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়াও

আইএমইআই পরিবর্তনের পর কম টাকায় মোবাইল বিক্রি করতেন তারা

শেষবার্তা ডেস্ক : রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে মোবাইল ফোন ছিনতাই, আইএমইআই পরিবর্তন ও চোরাই মোবাইল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *