নিজস্ব প্রতিনিধি: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়নে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। দরিদ্র মা ও বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন। একই সঙ্গে কৃষকদের কৃষিঋণ একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সুদসহ মওকুফ করা হবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় এসেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখে জনগণের সঠিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, কারা এই দেশের পরিচালনার দায়িত্ব পাবে।
তিনি বলেন, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে জনগণের কোনো লাভ নেই। জনগণ নিজের বিবেচনায় রায় দেবে এবং সেই রায়ের মাধ্যমেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রণীত নীতির ধারাবাহিকতায় কাজ করা হবে। সেই নীতির কারণেই একসময় দেশের কোটি কোটি নারী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছে। এখন লক্ষ্য সেই নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। নারীদের স্বাবলম্বী করা ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কৃষকদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কৃষক ভাইদের ওপর থাকা কৃষিঋণ একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সুদসহ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে।
ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আমিনুল ইসলামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই এলাকায় অনেক অসহায় মানুষ চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে বাধ্য হন। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষিত যুবসমাজের একটি বড় অংশ আজ বেকার। তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। আইটি ও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা হবে।
প্রবাসী আয় প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কোটি কোটি মানুষ বিদেশে কষ্ট করে উপার্জন করে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন। সেই অর্থ যেন দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যে নীতি গ্রহণ করা হবে।
এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্ষা এলেই মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হবে। জিয়াউর রহমানের খাল খনন প্রকল্প চালু করা হবে।
তিনি বলেন, তিনি নিজে ঢাকা-১৭ এলাকায় বড় হয়েছেন এবং ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৭ এলাকার মানুষের সমস্যা ও কষ্ট তিনি ভালোভাবে জানেন। সুযোগ পেলে একজন প্রতিবেশী হিসেবেই এই এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করবেন।
জনসভায় তিনি আরও বলেন, দেশ অনেক বছর পিছিয়ে গেছে। পৃথিবীর অনেক দেশ আমাদের ছাড়িয়ে গেছে। দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে শিক্ষার প্রসার ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
জনসভার শেষ পর্যায়ে তিনি ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল ইসলামের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন।
শেষে তারেক রহমান বলেন, তিনি এই এলাকারই সন্তান। অতীতেও মানুষের পাশে ছিলেন, এখনো আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। সবার কাছে দোয়া কামনা করে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
