নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের কারখানা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক। গত মঙ্গলবার (২২ জুলাই) এই পরিদর্শনকালে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কারখানার বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং এখানকার কাজের পরিবেশ, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ইলেকট্রনিক্স খাতের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ জোর দেন।
কারখানা প্রাঙ্গণে পৌঁছালে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুতাসিম দায়য়ানসহ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। এ সময় অতিথিদের সামনে ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের উৎপাদন সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে একটি বিশেষ উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়। কারখানার ভেতরে স্যামসাংয়ের বিশ্বমানের স্মার্টফোন, ফ্রিজ, টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার এবং অন্যান্য হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদনের প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রদূত। আধুনিক প্রযুক্তির সুনিপুণ ব্যবহার এবং দেশীয় প্রকৌশলী ও কারিগরদের দক্ষতা দেখে তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক গণমাধ্যম ও করপোরেট প্রতিনিধিদের সাথে আলাপকালে বলেন, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব দিন দিন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। ফেয়ার ইলেকট্রনিকস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বহুজাতিক প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাংয়ের যৌথ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিস্তার এবং প্রযুক্তির প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কারণে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে। এই বাজারে কোরিয়ান প্রযুক্তির উৎকর্ষ এবং স্থানীয় তরুণদের মেধা একত্রিত হয়ে একটি চমৎকার অর্থনৈতিক মেলবন্ধন তৈরি করেছে।
ফেয়ার গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের প্রযুক্তিপ্রেমী মানুষের হাতে সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের ইলেকট্রনিক্স পণ্য তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে তাদের এই কারখানা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। স্যামসাং ব্র্যান্ডের পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কেবল স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করছে না, বরং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দেশীয় উৎপাদন খাতের সক্ষমতাও প্রমাণ করছে। কারখানাটিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জোরালো ভূমিকা রাখছে। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের এই সফর উভয় দেশের ব্যবসায়িক অংশীদারত্বকে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফেয়ার গ্রুপের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটি দেশের রাষ্ট্রদূতের এই ধরনের কারখানা পরিদর্শন বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ উদ্যোগে আরও বড় ধরনের প্রযুক্তিভিত্তিক বিনিয়োগের পথ সুগম করবে। এই সফল সহযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ অচিরেই ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
