Wednesday , July 17 2024
Breaking News

দুর্নীতির মাস্টার গণপূর্ত’র সাইফুজ্জামান চুন্নু!

বিশেষ প্রতিবেদক: ঢাকারই তিনটি জোনে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় ভয়াবহ দুর্নীতি করে এসেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ডিভিশন-৪ এর দাপুটে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নু।

চুন্নুর বাবা পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মৃর্ধা জেলার কমলাপুর ইউনিয়নের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান। চুন্নুর বাবা স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্ঠীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও নিজের অবৈধ অর্থের জোরে ভোট কিনে তাকে জিতিয়েছেন এই সরকারি চাকুরে এলাকাবাসী, স্থানীয় রাজনীতিবীদদের সূত্রে এমনটা জানা গেছে।

কয়েকজন স্থানীয় আ’লীগ নেতা জানিয়েছেন, গত বছরের মে মাসের ২০ তারিখ পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর উপর হামলা চালায় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেই ঘটনায় সদর থানায় দুটি মামলা হয়৷ সেই মামলার এজহারে ১৭ নম্বর আসামির তালিকায় রয়েছে প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নুর বাবা আব্দুস সালাম মৃধার নাম। এখন নাম প্রকাশে অনেক সমস্যা আছে। চুন্নু তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে। টাকার জোরে ভোট কিনে বাবাকে জিতিয়েছে। এখন বাবা আবারও নির্যাতন – জুলুম আর অনিয়ম চালাবে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এর আগের বার যখন চুন্নুর বাবা চেয়ারম্যান ছিলেন, সেই আমলে ঘনিষ্ঠ সহযোগী তৎকালীন ইউপি মেম্বার মনির হোসেন মৃধাকে (পরবর্তীতে চেয়ারম্যান হলেও ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগে বরখাস্তকৃত) সঙ্গে নিয়ে বক্স কালভার্টের টাকা আত্মসাৎ থেকে শুরু করে পুকুর চুরি পর্যন্ত করেছেন।

একই ধারা অব্যাহত রেখেছেন সাইফুজ্জামান চুন্নু। ৩১ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের চাকরিতে ঢুকেই দাপুটে দুর্নীতিবাজ সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেন। আর নিজেও নেমে পড়েন হরিলুটে নিজের ভাগটুকু নিশ্চিত করতে। (বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে)

দুর্নীতিবাজ চুন্নু তার কালো টাকা দিয়ে মা মোসাম্মাত হালিমা বেগমের নামে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ একর জমি কিনেছেন। বাবার ব্রিক ফিল্ড বন্ধ হয়ে গেলেও, এখন এলাকায় রয়েছে নাহিয়ান ব্রিকস ফিল্ড নামের চুন্নুর নিজের প্রতিষ্ঠান। এটি পরিচালনা করেন হাবিবুল বাশার।

নিজ জেলা পটুয়াখালীতে আপন ফুফাতো ভাই শামিম, ফেরদৌস এবং নাইমের মাধ্যমেও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন যার সম্পূর্ণ টাকা চুন্নুর বলে জানা যায়। এর মধ্যে পটুয়াখালী জেলার ভিভো মোবাইল ফোনের অথরাইজড আউটলেট। মোবাইল ব্যাংকিং নগদের এজেন্ট। পটুয়াখালী এসটি মার্কেটে রয়েছে নেক্সাস নামের একটি অভিজাত পোশাকের শো রুম। এসব প্রতিষ্ঠান তার ফুফাতো ভাই দেখাশোনা করেন।

শুধু এলাকাতেই নয় রাজধানীর অভিজাত এলাকায় নামে বেনামে কিনেছেন কয়েকটি ফ্লাট। বনানীর ২৫ নম্বর রোডস্থ ৩১/এ বাড়ির ৫-বি ফ্লাট, গুলশানে ২ টি ও ধানমন্ডিতে একাধিক ফ্লাটের মালিক তিনি। 

এই বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চুন্নু স্যারের অনেক দাপট। তার বিরুদ্ধে কথা বললেও তিনি বদলি করিয়ে দিবেন। কোন কাজ কে পাবে, কবে পাবে, তার কমিশন কত, তা তিনি অফিস শেষে বিশেষ মিটিংয়ে বসে ঠিক করেন।

সূত্র আরও জানায়, সব জায়গায়ই ব্যাপক অনিয়ম করে এসেছেন তিনি। শুধুমাত্র আত্মসাৎ করার জন্যে বরাদ্দের উদ্বৃত্ত টাকা কাজ না থাকা সত্ত্বেও কাগুজে প্রকল্প ও চাহিদা দেখিয়ে লোপাট করেছেন। এসব টাকাই তিনি খরচ করেন নিজের পরিবারের পেছনে। তার বাবার ভোটের পিছনেও খরচ করেছেন অনেক টাকা।

চুন্নুর ব্যাপারে তার এলাকার এক জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সাথেও চুন্নুর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের ডিভিশন-৪ এর দাপুটে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার কোন সারা মেলেনি।

পরবর্তী পর্ব পড়তে সঙ্গে থাকুন।

এছাড়াও

আইএমইআই পরিবর্তনের পর কম টাকায় মোবাইল বিক্রি করতেন তারা

শেষবার্তা ডেস্ক : রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে মোবাইল ফোন ছিনতাই, আইএমইআই পরিবর্তন ও চোরাই মোবাইল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *