Thursday , April 25 2024
Breaking News

আয়ের ৭০% রেখে দেয় টিকটক

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বার্তা ডেস্ক : 

চীনভিত্তিক শর্ট ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট টিকটকে। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান করে বিবিসি। এতে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া থেকে যেসব দুস্থ অসহায় পরিবারগুলো সাহায্য চেয়ে টিকটক লাইভ করে, তার আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই রেখে দেয় টিকটক। আর বাকি সামান্য অর্থ পায় ওই সাহায্যপ্রার্থীরা।

এমন ভিডিও দেখে অসহায় মানুষদের যারা সাহায্য করতে চান তারা সেসব মানুষদের উদ্দেশে টিকটকে একটি ‘গিফট’ পাঠান। এই গিফট কিনতে টিকটককে অর্থ দিয়ে থাকেন দানকারী ব্যক্তি। এভাবে লাইভ থেকে আয় করে টিকটক। এক ঘণ্টার লাইভ ভিডিও থেকে টিকটক অন্তত ১০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করে। ৭০ শতাংশ অর্থ নিজেরাই রেখে দেয়

কোনো লাইভ থেকে অর্জিত আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ টিকটক নিজেরা রেখে বাকি ৩০ শতাংশ অর্থ দেয় সাহায্যপ্রার্থী ব্যক্তি বা পরিবারকে। এরজন্য মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশগুলোতে থাকা আশ্রয় শিবিরে গড়ে উঠেছে এক টিকটক চক্র। এক ঘণ্টার লাইভ ভিডিও থেকে টিকটক অন্তত এক হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করে বলে বিবিসির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। সেখান থেকে মুষ্টিমেয় অঙ্ক পায় আসল সাহায্যপ্রার্থীরা।

যদিও টিকটক বলছে, এমন লাইভ স্ট্রিমিং করা টিকটকের কনটেন্ট নীতিমালার পরিপন্থি। এর মাঝেও আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের টিকটক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে দেন একজন মধ্যসত্ত্বভোগী। এমন ব্যক্তি টিকটক মিডলম্যান নামে পরিচিত শিবিরগুলোতে। এছাড়াও শরণার্থীদের মোবাইল ফোন, সিম কার্ডও জোগাড় করে দেন তিনি।

এই মিডলম্যান আবার টিকটকের চীন এবং মধ্যপ্রাচ্য শাখার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আছে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো টিকটকের বৈশ্বিক বাজারে লাইভস্ট্রিমিং করার জন্য ব্যবহারকারীর ব্যবস্থা করে থাকে। পাশাপাশি টিকটক ব্যবহারকারীরা যেন এমন লাইভ ভিডিওতে বেশি সময় ব্যয় করেন তার কৌশল নির্ধারণ করে এসব প্রতিষ্ঠান।

উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় থাকা একটি শরণার্থী শিবিরের এক পরিবারকে অনুসরণ করে বিবিসি। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে লাইভ ভিডিও করে সাহায্য চাওয়া হয় এমন ৩০টি টিকটক অ্যাকাউন্টও নিয়মিত অনুসরণ করে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি। এসব ভিডিও থেকে আয়ের কত অংশ প্রকৃত অর্থে সাহায্য প্রার্থীদের কাছে যায় সে বিষয়ে টিকটকের কাছে জানতে চাইলে সুস্পষ্ট কোনো উত্তর দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। তখন নিজেরাই টিকটক লাইভ করার পরিকল্পনা করে বিবিসি।

বিবিসির একজন প্রতিনিধি সিরিয়া গিয়ে যোগাযোগ করেন একজন টিকটক মিডলম্যানের সঙ্গে। সেই মিডলম্যান ওই প্রতিনিধিকে একটি টিকটক অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থা করে দেন। এরপর টিকটক লাইভে যান ছদ্মবেশধারী বিবিসির প্রতিনিধি। অন্যদিকে লন্ডনে বসে বিবিসির আরেক প্রতিনিধি সেই ভিডিও দেখে সেখানে ডিজিটাল উপহার’ পাঠান। টিকটক থেকে এই উপহারগুলো কিনতে বিবিসির লন্ডন প্রতিনিধির খরচ হয় ১০৬ মার্কিন ডলার। কিন্তু দেখা যায়, সিরিয়ায় থাকা বিবিসির প্রতিনিধি তার টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে পেয়েছেন মাত্র ৩৩ ডলার। অর্থাৎ প্রায় ৬৯ শতাংশ অর্থই টিকটক রেখে দেয়।

টিকটকে একেক ধরনের ডিজিটাল উপহার কিনতে একেক মূল্যের অর্থ খরচ করতে হয়। যেমন—একটি ডিজিটাল গোলাপ ফুল উপহার হিসেবে পাঠাতে ফুলটি কিনতে কয়েক মার্কিন সেন্ট প্রয়োজন হয়। আবার একটি সিংহ কিনতে খরচ হয় প্রায় ১০০০ ডলার। এমন অর্থ চেয়ে লাইভ করা এবং বিশেষ করে শিশুদের দিয়ে লাইভ করে অর্থ চাওয়া আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে বিবিসির কাছে দাবি করেন একাধিক মানবাধিকার কর্মী। অথচ বিবিসি যখন শিশুদের দিয়ে লাইভ করানো হয় এমন ৩০টি অ্যাকাউন্ট ‘রিপোর্ট’ করে টিকটকে, তখন কোনো নীতিমালা ভঙ্গ হয়নি দাবি করে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি টিকটক।

২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববাজার থেকে টিকটক এখন পর্যন্ত ৬.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে ।কিন্তু পরবর্তীতে টিকটকের কাছে মন্তব্য চেয়ে যখন বিবিসি যোগাযোগ করে তখন ওই ৩০টি অ্যাকাউন্টের সবগুলো মুছে ফেলে টিকটক। পাশাপাশি নিজের অবস্থান তুলে ধরে টিকটক জানায়, বিবিসির পক্ষ থেকে যে অভিযোগ এবং তথ্য আমাদের কাছে এসেছে সে বিষয়ে খুবই সচেতন এবং সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি আমরা। এ ধরনের কনটেন্ট আমাদের প্ল্যাটফর্মে অনুমোদন নেই। পাশাপাশি প্রতারণামূলক ভিক্ষাবৃত্তির বিরুদ্ধে আমরা আমাদের বৈশ্বিক কৌশল আরও জোরদার করছি।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববাজার থেকে টিকটক এখন পর্যন্ত ৬.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে।

এছাড়াও

ইন্সটাগ্রাম,ফেসবুক এবং অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে লিংক করা নিষিদ্ধ করলো টুইটার

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বার্তা ডেস্ক: টুইটার ব্যবহারকারীরা ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম এবং মাস্টোডন-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু সামাজিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *